"> বিশ্বমানের সড়ক সূচকে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ বিশ্বমানের সড়ক সূচকে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ – News vision
  1. admin@newsvision.us : admin :
  2. info@newsvision.us : newsvision :
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

বিশ্বমানের সড়ক সূচকে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

নিউজ ভিশন ডেস্ক ::
  • পোষ্ট করেছে : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ৩৫ জন দেখেছেন

বাংলাদেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নে গত ১০ বছরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। চার লেনের রাস্তা তৈরি, সড়ক-সেতু প্রশস্তকরণ, পুনর্বাসন, সংস্কার আর রক্ষণাবেক্ষণের কাজে এ অর্থ খরচ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ নকশা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ আর নির্মাণ-পরবর্তী পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতায় দেশের সড়ক অবকাঠামো টেকসই হচ্ছে না। বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও নিম্নমানের সড়ক গড়ে তুলছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি এখনো খারাপ অবস্থায় রয়ে গেছে সওজের সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি সড়ক।

কোন দেশের সড়ক কেমন, সূচক আকারে তা নিয়মিত প্রকাশ করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। প্রশস্ততা ও অবস্থা বিশ্লেষণ করে তালিকাভুক্ত প্রত্যেকটি দেশের সড়কের স্কোরিং করে সংস্থাটি। বেশি স্কোর পাওয়া দেশগুলো চলে যায় তালিকার শীর্ষে। বিপরীতে কম নম্বর পাওয়া দেশগুলো থাকে তলানিতে। বিশ্বমানের সড়কের বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশ আছে তলানিতে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ সড়ক আছে কেবল নেপালে।

২০০৭ সালে ডব্লিউইএফের কোয়ালিটি অব রোডস সূচকে ভারত ছিল ৮২ নম্বরে। এর ঠিক পরে অর্থাৎ ৮৩ নম্বরে ছিল বাংলাদেশ। পরের এক দশকে প্রতিবেশী এ দুই দেশ হেঁটেছে উল্টোপথে। ভালো মানের সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ভারতের অবস্থান এখন ৫৫ নম্বরে। একই সময়ে বাংলাদেশ বিপুল বিনিয়োগ করলেও বিশ্বমানের সড়ক গড়ে ওঠেনি। অবনমন হতে হতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১০৭-এ।

দেশজুড়ে সওজের নেটওয়ার্কে থাকা সড়কের পরিমাণ সাড়ে ২২ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে চার লেনের সড়কের পরিমাণ ৫০০ কিলোমিটার। আট আর ছয় লেনের সড়ক মাত্র ৩৮ কিলোমিটার। সদ্য প্রকাশিত সওজের এইচডিএম সার্কেলের জরিপে উঠে এসেছে, সংস্থাটির নেটওয়ার্কে থাকা ৩ হাজার ৬৪৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে খারাপ অবস্থায়। এর মধ্যে ৮৩৯ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। খারাপ অবস্থায় রয়েছে সাড়ে ৯০০ কিলোমিটার সড়ক। বেশ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে আরো প্রায় ১ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার সড়ক। এসব সড়ক মেরামত করতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার চাহিদার কথা জানিয়েছে এইচডিএম।

সওজ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তারা ২০ বছর টেকার উপযোগী করে সড়ক নির্মাণ করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো এক-দেড় বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কখনো নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে এসব সড়ক অবকাঠামো সংস্কারেও প্রতি বছর মোটা অংকের অর্থ খরচ করতে হয় সওজকে।

বাংলাদেশের সড়কগুলোর খারাপ অবস্থায় চলে যাওয়ার পেছনে যানবাহনের ওভারলোডিংকে দায়ী করছেন সওজ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) মনির হোসেন পাঠান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, যত ভালো মানেরই সড়ক বানানো হোক না কেন, ওভারলোডিং হলে তা দ্রুত নষ্ট করে ফেলবে। আমাদের এখানে এ ঘটনাই বেশি হচ্ছে। ওভারলোডিংয়ের কারণে রাটিংয়ের মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আর বদনাম হচ্ছে আমাদের। সড়কে ওভারলোডিং নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশের মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন শুরু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিম্নমানের নির্মাণকাজের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সব শ্রেণী-পেশার কিছু মানুষের মধ্যে সুযোগ নেয়ার একটা প্রবণতা আছে। কিছু ক্ষেত্রে সড়কের ঠিকাদাররা নিম্নমানের কাজ করে ফেলেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা বোঝা যায় কাজ শেষ হওয়ার পর। তবে ঠিকাদাররা যেন নিম্নমানের কাজ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে আমাদের প্রকৌশলীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সড়ক অবকাঠামো অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সিংহভাগই সড়কনির্ভর। দুর্বল অবকাঠামোর কারণে পণ্য ও মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। যানজটে নাকাল হচ্ছে মানুষ। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে হতাহতের মিছিল। অন্যদিকে পণ্য পরিবহনে লাগছে অতিরিক্ত সময়। বেড়ে যাচ্ছে পরিবহন ব্যয়, যার খেসারত দিচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

দুর্বল সড়ক অবকাঠামোর কারণে বাংলাদেশে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে জানতে চাইলে পরিবহন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের লাইফলাইন হলো মহাসড়ক। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, টেকসই মহাসড়ক গড়ে তুলতে পারলে প্রবৃদ্ধির হার আরো বেশি হতে পারত। বাংলাদেশে আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনের প্রায় পুরোটাই হচ্ছে সড়কপথে। দুর্বল সড়কের কারণে এসব পণ্য বন্দর থেকে ভোক্তা পর্যায়ে কিংবা উৎপাদক থেকে বন্দরে পৌঁছাতে সময় বেশি লাগছে। ফলে এখানে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।

দুর্বল সড়ক অবকাঠামো এশিয়ান হাইওয়ে, সাসেক করিডরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক করিডরে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন তিনি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, আন্তর্জাতিক করিডরগুলোর মাধ্যমে চীন, ভারত, মিয়ানমার, ভুটান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে সড়ক নির্মাণও করা হচ্ছে। কিন্তু এগুলো মানসম্পন্ন না হওয়ার কারণে যখন করিডরগুলো চালু হবে, তখন সেসব করিডরের ট্রাফিকের চাপ দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো নিতে পারবে না।

তবে অধ্যাপক হাদিউজ্জামান মনে করেন, এখনো বাংলাদেশের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাইলেই উন্নত মহাসড়ক গড়ে তোলা সম্ভব।

 

সুত্র: বণিকবার্তা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 News Vision LTD It's a TM Registered News Organization
Design & Development Freelancer Zone