"> ২০২১-২২ অর্থবছর।। ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন ২০২১-২২ অর্থবছর।। ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন – News vision
  1. admin@newsvision.us : admin :
  2. info@newsvision.us : newsvision :
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

২০২১-২২ অর্থবছর।। ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

নিউজ ভিশন ডেস্ক ::
  • পোষ্ট করেছে : বুধবার, ১৯ মে, ২০২১
  • ৬২ জন দেখেছেন

আগামী অর্থবছরের (২০২১-২২) জন্য ১ হাজার ৫১৫টি প্রকল্পের বিপরীতে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি ৯ লাখ টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি), যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। এছাড়া সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০ প্রকল্পে ৫৪ হাজার ৪৫১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও এনইসির চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ ও সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রস্তাবিত এডিপির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

তিনি জানান, এবারের এডিপিতে শীর্ষ ১০টি খাতে ২ লাখ ১০ হাজার ৪২১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া নতুন প্রকল্পের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৪২৬টি প্রকল্পের বিপরীতে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেখানে চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বরাদ্দ ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। ফলে মূল এডিপি বাড়ছে প্রায় ১৪ শতাংশ। মূল এডিপির পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ১১ হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার এডিপি অনুমোদন করা হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত বা করপোরেশনের ৮৯টি প্রকল্পসহ মোট ১ হাজার ৫১৫টি প্রকল্পের বিপরীতে এডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।

জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) বরাদ্দ ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। এর সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশন নিজস্ব অর্থায়নে ১১ হাজার ৬২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে এডিপি বাস্তবায়ন করবে। সংশোধিত এডিপির মোট আকার ২ লাখ ৯ হাজার ২৭১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার বেড়েছে ১৩ শতাংশের বেশি।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, এনইসির সভায় প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। এগুলো হলো—করোনার কারণে যেসব প্রকল্পে অগ্রগতি ভালো হয়নি, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে। বিশেষ করে জনগণের কল্যাণে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রকল্পগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া আগামী বাজেটে সব ধরনের গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। এখন থেকে ঢালাওভাবে বিদেশী পরামর্শক নেয়া যাবে না। যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই নিতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতির নানা সূচকের অগ্রগতির তথ্য উপস্থাপন করেন। তবে জিডিপির প্রবৃদ্ধির তথ্য এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানান তিনি। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভালো সক্ষমতা অর্জন করেছে।

গতকালের এনইসি সভায় জানানো হয়, অন্যান্য বছরের মতো এবারো দেশজ সম্পদ, বৈদেশিক অর্থায়ন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস তথা জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা কৌশল এবং লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। যেখানে দারিদ্র্য বিমোচন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃজন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত প্রবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আইসিটি শিক্ষার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্ষয়ক্ষতি পুনর্বাসন-সংক্রান্ত প্রকল্প, সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক প্রকল্প ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) বাস্তবায়িত নতুন প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

অনুমোদিত এডিপির ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থায়ন ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন ৮৮ হাজার ২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা করপোরেশনের ১১ হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থায়ন ৬ হাজার ৭১৭ কোটি ৪৮ লাখ এবং বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন ৪ হাজার ৭৫১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৪২৬টি প্রকল্পের মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৩০৮টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১১৮টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে ৮৯টি প্রকল্পসহ মোট প্রকল্প ১ হাজার ৫১৫টি।

খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ১০টি খাতে ২ লাখ ১০ হাজার ৪২১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট এডিপির প্রায় ৯৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে প্রায় ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বা বরাদ্দের প্রায় ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ৪৫ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা (২০.৩৬%), গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে প্রায় ২৩ হাজার ৭৪৭ কোটি (১০.৫৪%), শিক্ষা খাতে প্রায় ২৩ হাজার ১৭৮ কোটি (১০.২৯%), স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৭ হাজার ৩০৭ কোটি (৭.৬৮%), স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে প্রায় ১৪ হাজার ২৭৪ কোটি (৬.৩৪%), পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি খাতে প্রায় ৮ হাজার ৫২৬ কোটি (৩.৭৮%), কৃষি খাতে প্রায় ৭ হাজার ৬৬৫ কোটি (৩.৪০%), শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে প্রায় ৪ হাজার ৬৩৮ কোটি (২.০৬%) এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা (১.৫৯%)।

মন্ত্রণালয় বা বিভাগভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ: স্থানীয় সরকার বিভাগে ৩৩ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৮ হাজার ৪২ কোটি, বিদ্যুৎ বিভাগে ২৫ হাজার ৩৪৯ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি মন্ত্রণালয়ে ২০ হাজার ৬৩৪ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ৫৫৮ কোটি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ১৩ হাজার কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ১১ হাজার ৯১৯ কোটি, সেতু বিভাগে ৯ হাজার ৮১৩ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৮ হাজার ২২ কোটি এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা।

সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ প্রকল্প: সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৫৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। প্রকল্পটিতে প্রায় ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল পাওয়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্টে প্রায় ৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার ৫৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৮২৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ২২৭ কোটি ২০ লাখ, এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৫১ কোটি ১১ লাখ ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত) প্রায় ২ হাজার ৮২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

নতুন প্রকল্পে থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ২ হাজার ৮৯৩ কোটি ও প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে বরাদ্দবিহীনভাবে অননুমোদিত নতুন ৫৯৬টি প্রকল্প ও বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন ১৪১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পিপিপি প্রকল্প ৮৮টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৩০ জুন ২০২২-এর মধ্যে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্প ৩৫৬টি। ২০২০-২১ অর্থবছরের আরএডিপিতে জুন ২০২১-এ সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত আরো ৭৩টি প্রকল্প ২০২১-২২ অর্থবছরে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 News Vision LTD It's a TM Registered News Organization
Design & Development Freelancer Zone