"> আরমানিটোলায় রাসায়নিক গুদামে আগুন, ৪ জন নিহত আরমানিটোলায় রাসায়নিক গুদামে আগুন, ৪ জন নিহত – News vision
  1. admin@newsvision.us : admin :
  2. info@newsvision.us : newsvision :
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

আরমানিটোলায় রাসায়নিক গুদামে আগুন, ৪ জন নিহত

নিউজ ভিশন ডেস্ক ::
  • পোষ্ট করেছে : শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৫ জন দেখেছেন

পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় একটি আবাসিক ভবনে আগুনে পুড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৫০ জন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাজী মুসা ম্যানশন নামে ছয়তলা ওই ভবনটির নিচতলায় থাকা রাসায়নিকের গুদাম থেকে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরমানিটোলার ওই অগ্নিকাণ্ডে আহতদের মধ্যে ২১ জনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং ১৮ জনকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে চারজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

আরমানিটোলার ৯/১১ নম্বর আর্মানিয়ান স্ট্রিট হোল্ডিংয়ের হাজী মুসা ম্যানশন নামে ভবনটির নিচতলায় ছিল রাসায়নিক দ্রব্যের দোকান ও গুদাম। রাসায়নিক দ্রব্যে আগুন লাগায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের বাসিন্দারা দাউ দাউ আগুনের পাশাপাশি তীব্র ধোঁয়া ও রাসায়নিকের ঝাঁজের কারণে ভেতরে আটকা পড়েন। ভবনটির ছাদে ওঠার সিঁড়ির দরজা বন্ধ থাকায় বাসিন্দারা ছাদেও যেতে পারেননি। বারান্দা থেকে সাহায্যের আশায় চিৎকার করতে থাকেন তারা। সাহরির সময় বাঁচার আকুতি জানিয়ে তাদের আর্তচিৎকারে এলাকার আতঙ্কময় এক পরিবেশ তৈরি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বিভিন্ন ফ্ল্যাটের বারান্দার গ্রিল ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্র্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীর নবাব কাটরায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের বিস্ফোরণ থেকে রাসায়নিকের গুদামে লাগা আগুনে ১২৪ জন মানুষ পুড়ে অঙ্গার হন। পুড়ে যায় ২৩টি বসতবাড়ি, দোকান ও কারখানা। এরপর ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারায় ৭১ জন। ওইসব ঘটনায় গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটি তাদের সুপারিশ দিলেও পুরান ঢাকা থেকে সরেনি অবৈধ রাসায়নিকের গুদাম। এ নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ১৮ মিনিটের দিকে হাজী মুসা ম্যানশনের নিচতলায় রাসায়নিকের গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজে অংশ নেয় ফায়ার সার্ভিসের সদরঘাট, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও ও সিদ্দিকবাজার সদর দপ্তরেরসহ ১৯টি ফায়ার ইউনিট। আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয় সদর দপ্তরের লাইটিং ইউনিট, টিটিএল, ক্রাউট কন্ট্রোল ইউনিট ও অ্যাম্বুলেন্স ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আগুন নেভানোর পাশাপাশি ভবনে আটকা পড়ে আহত হওয়া ১৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এছাড়া ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করে বডি ব্যাগে সংরক্ষণ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে মারা যান। ভবনের তিনতলায় আটকে পড়া একটি পোষা টিয়াপাখিও উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা।

আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন, পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান ও লে. কর্নেল এসএম জুলফিকার রহমানসহ বাহিনীর অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আগুন লাগার পর মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাজী মুসা ম্যানশনের পাশের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথের সিকিউরিটি গার্ড বজলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ রাতে এটিএম বুথের দরজা খুলে ভেতরে রেস্ট নিচ্ছিলাম। হঠাৎ শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে আগুন দেখি। মুসা ম্যানশনের সামনে গিয়ে দেখি, সারা ভবনে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভবনে থাকা লোকজন তখন বাঁচার জন্য চিৎকার করছেন। কেউ কেউ জানালার কাচ ভেঙে বা গ্রিল ভেঙে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। এক ভয়াবহ দৃশ্য। এমন পরিস্থিতিতে ভবনের নিচের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একজনকে উদ্ধার করি। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় আর ওপরে উঠতে না পেরে ভবনের দোতলা থেকে নিচে নেমে আসি।’

বজলুর আরও বলেন, ‘বেরিয়ে নিচ থেকে ওপরে তাকিয়ে দেখি ভবন থেকে নারী-পুরুষ আগুন থেকে বাঁচার জন্য চিৎকার করছেন। অনেকে দোয়া দরুদ পড়ছেন। তারা বিভিন্নভাবে জানালার কাচ ভেঙে লাফ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আগুন লাগার ঠিক ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসে। তারা এসে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও কেমিক্যালের কারণে ভবনের ভেতরে প্রচুর ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ভেতরের লোকজন তখনও চিৎকার করছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন প্রথমে ভবনের গ্রিল কেটে শিশু ও নারীদের এবং পরে পুরুষদের উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনেন।’

নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে যেন ফিরে এসেছেন মুসা ম্যানশনের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। কিছু সময় পরই সাহরির জন্য উঠব। কিন্তু তার আগেই রাত সোয়া ৩টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এর মধ্যে অনেকেই আগুন আগুন বলে চিৎকার শুরু করে। আমি চারতলা থেকে ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ছাদ বন্ধ ছিল। পরে বারান্দায় গিয়ে গ্রিল ভাঙার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। অবশেষে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গ্রিল কেটে আমাদের উদ্ধার করেন।’

নিহত যারা : মুসা ম্যানশন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ইডেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়া আক্তারকে (২২)। তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বংশাল থানার ওসি মো. শাহীন ফকির জানান, মুসা ম্যানশনের ওপরের তলায় নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের একজন ওয়ালিউল্লাহ ও আরেকজনের নাম কবির হোসেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সকালে ভবনটি থেকে নিরাপত্তাকর্মী রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। রাসেল নিরাপত্তাকর্মীর কাজের পাশাপাশি একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবেও কাজ করতেন। নিহত ওয়ালিউল্লাহও ওই ভবনের নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। আর কবির হোসেন ওয়ালিউল্লাহর কাছে বেড়াতে আসা তার আত্মীয়।

মিটফোর্ডে ভর্তি হন ১৮ : হাজী মুসা ম্যানশনে আগুনের ঘটনায় ১৮ জনকে আহত অবস্থায় নেওয়া হয় মিটফোর্ড হাসপাতালে। তাদের মধ্যে চারজন ফায়ার সার্ভিসকর্মী। তারা হলেন গিয়াসউদ্দিন (৪৫), বিষুপদ মিস্ত্রি (৪০), লিটন (৩০) ও ফরহাদ রহমান (৩৮)। এছাড়া আরও যারা আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিয়েছেন তারা হলেনআবদুল কাদের (৪০), বিল্লাল হোসেন (৫০), মো. ফারুক (৫৫), আসমা সিদ্দিকা (৪৫), ইউসুফ মোল্লা (৬০), মো. বাবুল (৫০), হাজি মো. ইব্রাহিম (৫০), সুফিয়া (৫০), মুনা (৩০), আশিকুর রহমান (৫০), জুনায়েদ (১১), আকাশ (২২) ও দেলোয়ার (৫৮)। আহতদের বেশিরভাগই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ও আগুনে পোড়া ছিলেন।

দগ্ধ ২১ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে : আরমানিটোলার আগুনে দগ্ধ ২১ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে আছেন। বাকি ১৬ জন বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে মোস্তফা নামে একজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। ভর্তি বাকি ২০ জনের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। এদের মধ্যে দুজনের ‘ফিজিক্যাল বার্ন’ এবং দগ্ধদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তিরা হলেন আশিকুজ্জামান (৩৩), তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মুনা (৩০), শ্বশুর ইব্রাহিম সরকার (৬০), শাশুড়ি সুফিয়া বেগম (৫০), শ্যালক জুনায়েদ (২০) এবং মোস্তফা (৪০), ইউনুস মোল্লা (৬০), সাকিব হোসেন (৩০), সাখাওয়াত হোসেন (২৭), সাফায়েত হোসেন (৩৫), চাষমেরা বেগম (৩৩), দেলোয়ার হোসেন (৫৮), আয়সাপা (২), খোরশেদ আলম (৫০), লায়লা বেগম (৫৫), মোহাম্মদ ফারুক (৫৫), মেহেরুন্নেসা (৫০), মিলি (২২), পাবিহা (২৬), আকাশ (২২) ও আসমা সিদ্দিকা (৪৫)। গতকাল বেলা পৌনে ১২টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক তন্ময় প্রকাশ ঘোষ এসব তথ্য জানান।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন জানান, সেখানে চিকিৎসাধীন চারজনের শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তারা হলেন আশিকুজ্জামান, ইসরাত জাহান মুনা, সাফায়েত হোসেন ও খোরশেদ আলম। ভর্তি অন্যদের ১৫-২২ ভাগ দগ্ধ হয়েছে।

রাসায়নিকের গুদাম থেকে আগুন লাগার ধারণা : মুসা ম্যানশনের নিচতলায় থাকা রাসায়নিকের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছে পুলিশ। ভবনের নিচতলার মার্কেটে ১৬ থেকে ২০টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে রাসায়নিক পণ্য কেনাবেচা হতো। ভবনের নিচতলার পেছনের দিকের একটি রাসায়নিকের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত উপকমিশনার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনটির নিচতলায় দোকান রয়েছে। এসব দোকানে রাসায়নিক পণ্য বিক্রি হতো। রাসায়নিক পণ্য বিক্রির কোনো দোকানের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।’

তবে ফায়ার সার্ভিস এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগুনের কারণ ও সূত্রপাত সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান ঘটনাস্থলে বলেন, ‘কোথা থেকে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

ঘটানাস্থলে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভাস্কর দেবনাথ বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে আসবে। তারা পরীক্ষা করে দেখবে রাসায়নিক থেকে আগুন লেগেছে কি না এবং ভবনের দোকানগুলোতে এ ধরনের পদার্থ আছে কি না। এছাড়া আগুন লাগার আর কোনো ঝুঁকি আছে কি না তাও খাতিয়ে দেখা হবে।’

সরেজমিন দেখা গেছে, মুসা ম্যানশনের নিচতলার পাঁচ-ছয়টি দোকান আগুনে প্রায় পুরোটাই পুড়ে গেছে। দোকান ও গুদামের ভেতরে বড় বড় ড্রাম পুড়ে গেছে। এছাড়া রাসায়নিক পণ্য কেনাবেচায় ব্যবহৃত কিছু ছোট ছোট কনটেইনারও সেখানে দেখা গেছে।

ভবনের বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ভবনটির মালিক ছিলেন হাজি মুসা নামে এক ব্যক্তি। তিনি দুই বছর আগে মারা যান। তার ছেলে মোস্তাক আহমেদ ভবনটি দেখাশোনা করেন। তবে তিনি নিজে ধানমন্ডি এলাকায় থাকেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, ভবনটির নিচতলার একদিকে রাসায়নিক পদার্থের ছোট ছোট দোকান, অন্যদিকে রয়েছে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম। গুদামে প্রচুর রাসায়নিক পদার্থ রাখা আছে। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একদিকে অফিস, অন্যদিকে দুটি ফ্ল্যাট আবাসিক বাসা হিসেবে ভাড়া দেওয়া। আর তৃতীয় থেকে ষষ্ঠতলা পর্যন্ত সব ফ্ল্যাটই আবাসিক বাসা হিসেবে ভাড়া দেওয়া।

তদন্ত কমিটি : মুসা ম্যানশনে আগুনের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এ কমিটিকে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের উপপরিচালক (উন্নয়ন) নূর হাসানকে সভাপতি করে চার সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন ফায়ার সার্ভিসের জোন-১-এর উপসহকারী পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ওয়্যারহাউজের দুজন পরিদর্শক।

তদন্ত কমিটির সদস্য নূর হাসান বলেন, ‘ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা তদন্তে দেখার চেষ্টা করব অগ্নিকাণ্ডটি কেন সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার হিসাব বের করা হবে।’

তদন্ত কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, ‘সেখানে যেসব রাসায়নিকের গোডাউন ছিল বলা হচ্ছে, সেগুলো রাখার পরিবেশ ছিল কি না এবং অনুমতি ছিল কি না সেগুলোও আমরা খতিয়ে দেখব। আশা করি আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’

 

সুত্র : https://www.deshrupantor.com

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 News Vision LTD It's a TM Registered News Organization
Design & Development Freelancer Zone