"> ক্ষমতার স্বপ্ন চুরমার গেরুয়া শিবিরের, বাংলার মসনদে আবারো মমতা ক্ষমতার স্বপ্ন চুরমার গেরুয়া শিবিরের, বাংলার মসনদে আবারো মমতা – News vision
  1. admin@newsvision.us : admin :
  2. info@newsvision.us : newsvision :
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন

ক্ষমতার স্বপ্ন চুরমার গেরুয়া শিবিরের, বাংলার মসনদে আবারো মমতা

ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়
  • পোষ্ট করেছে : রবিবার, ২ মে, ২০২১
  • ২০৪ জন দেখেছেন
বাংলার মসনদে তৃতীয়বারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন চুরমার গেরুয়া শিবিরের। কিন্তু খবর টা শুরু হতে পারতো এই ভাবেও– বাংলার রাজনীতি তে পরাজিত (পড়ুন পর্যূদস্ত) হল : অহংকারের রাজনীতি, দলবদলু তোষণের রাজনীতি, বাহ্যিক আড়ম্বরের রাজনীতি, অর্থবলের রাজনীতি, টিটকিরির রাজনীতি, মিথ্যার রাজনীতি, আর্মচেয়ার রাজনীতি, আর্মচেয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। না কোনো ভুল করবেন না। এটা কোনো ক্লীফহ্যাঙ্গার শেষমেশ হয়নি।
বিজেপি র ৭৬ আসনের পাশে তৃণমূলের ২১৪ টি আসনে জয়, ভোটের শতাংশের হিসাবে বিজেপি র ৩৮ শতাংশর তুলনায় তৃণমূলের প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট প্রমাণ করে দিয়েছে এই জয় শুধু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, তার থেকেও অনেক বেশি। বিজেপি র জন্য একমাত্র মুখরক্ষা সম্ভবত নন্দীগ্রাম এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেন্দু অধিকারী র জয়। যদিও এই জয় কে কে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে এবং হয়তো আরও উঠবে। কারণ প্রথমে নির্বাচন কমিশন মমতা কেই জয়ী ঘোষণা করেছিলেন। কিছুক্ষণ বাদে সেই ঘোষণা পাল্টে যায়। এই জয়-পরাজয় অবশ্য নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং মমতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে কোনো অন্তরায় হবে না। মমতা বা  তাঁর দল হয়তো এর বিরুদ্ধে আদালতে ও যাবে। কিন্তু যেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল মমতা নিজে হারলে ও- তাঁর এই আসন থেকে লড়ার সিদ্ধান্তটা এবং শুভেন্দু অধিকারীকে সম্মুখ সমরে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার ঘটনা টা দলের নেতা এবং কর্মীদের মনোবল কে একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে দিয়েছিল- যার পরোক্ষ প্রভাব নিশ্চয়ই নির্বাচনের  এই ফলাফলের ওপর পড়েছে।
এই নির্বাচনী ফলাফলের আর একটা তাৎপর্যপূর্ণ টেকাওয়ে হল- এ রাজ্যে বাম, কংগ্রেস এর অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া। আব্বাস সিদ্দিকী র ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট এর সঙ্গে হাত ধরাধরি করে তাদের ঝুলি ফাঁকা। আই এস এফ এর সঙ্গে হাত মেলানো টা বোধহয়  সাধারণ বাম এবং কংগ্রেস কর্মী রা ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি। ঠিক যেমন ভাবে তৃণমূল থেকে আসা দলবদলু দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিজেপি র সাধারণ কর্মী এবং ভোটার রা ভালো ভাবে নেয়নি। দলবদলু দের অধিকাংশই ধরাশায়ী হয়েছেন। বিজেপি একদিকে যেমন সংখ্যালঘু ভোট টানতে ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি হিন্দু ভোট কে পুরোপুরি নিজেদের দিকে নিয়ে আসতেও ব্যর্থ হয়েছে। হিন্দু ভোটেও তৃণমূল ভালোই থাবা বসিয়েছে। প্রাথমিক পর্যালোচনা যেটা মনে করা হচ্ছে কংগ্রেস ভোটব্যাংক এর একটা বড় অংশ এবার তৃণমূলের দিকে গেছে। কংগ্রেসের চিরাচরিত গড় মুর্শিদাবাদ, মালদহ তেও তৃণমূলের বিপুল জয় তারই প্রমাণ।
মনে রাখতে হবে এবার বাংলা জয়ের জন্য গেরুয়া শিবির কোনো কিছু করতেই বাকি রাখেনি- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মিলে এ রাজ্যে প্রায় ৮০ টা নির্বাচনী জনসভা করেছেন, প্রায় এক ডজনের ও বেশী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তিন মাস ধরে রাজ্যে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিলেন, সমস্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রী দের নোটিস পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা, কোভিডের ঝুঁকি কে আমল না দিয়ে আট দফায় ভোট করানো, নির্বাচন কমিশন কে প্রভাবিত করার চেষ্টা, এক বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভোট করানো- সবই করেছে। তাই নির্বাচনী ভরাডুবি নিয়ে ডান শিবিরের খুব একটা কিছু বলার থাকবে না। তারা এখন ওই ৩ আসন থেকে একলাফে ৭৪ আসনে পৌঁছানো টাকেই বড় করে দেখাতে চাইবে।
আসলে বিজেপি এখন ও বাংলার দল, বাঙালির দল হয়ে উঠতে পারেনি- সেটা শুধু ভাষাগত প্রশ্নে নয়, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, রীতি রেওয়াজ- কোনো কিছুর সঙ্গেই তাদের আত্মিক মেলবন্ধন হয়ে উঠতে পারে নি। আর তাই কাজে আসে নি বি জে পি র যাবতীয় মাইন্ডগেম। কাজে আসে নি গ্রিক শিবিরের মমতা সরকারের যাবতীয় উন্নয়ন ও জনকল্যানমুখী কাজের প্রতি চোখ বন্ধ রাখার প্রয়াস।
মোদী- শাহ এবং বি জে পি র অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা এবারের নির্বাচনী প্রচার কে মোদী- বনাম- মমতা লড়াইয়ে পরিণত করায়, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করা ‘অ্যান্টনি ইনকামবেন্সী ফ্যাকটর’ এ রাজ্যে দলের বিরুদ্ধে গেছে। কোভিড মোকাবিলায় এবং  গণ ভ্যাকসিনেশন প্রকল্পে মোদী সরকারের ব্যর্থতাও ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম দফায় গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধেই গেছে।
তৃণমূলের এই অভাবনীয় জয়ের পিছনে দলের নন-প্লেয়িং ক্যাপ্টেন  , ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা কে খাটো করে দেখলে চলবে না। তিনি প্রথম দিন থেকেই একভাবে বলে গেছেন যে তৃণমূল ২০০ র বেশি আসন পাবে। আর হল ও তাই।
সর্বোপরি এই অভাবনীয় জয়ের পরে জাতীয় স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্যই উঠে আসবেন মোদী-শাহ র নেতৃত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং অপ্রতিরোধ্য প্রতিদ্বন্দ্বী বা চ্যালেঞ্জার হিসাবে। যার শুরু কিন্তু  হতে পারে  কয়েকটি প্রতিবেশী রাজ্য থেকে, যেখানে কোনো না কোনো সময়ে তৃণমূল একটা ভিত গড়তে চেয়েছিল।
তৃণমূল এবং কংগ্রেস থেকে বি জে পি তে যাওয়া ওই সমস্ত রাজ্যের নেতারা এই ফলে উৎসাহিত হয়ে মমতার ছাতার তলায় এসে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করতে পারেন। হবে কি না হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই মুহুর্তে শুধু বলা যেতে পারে- খেলা ভালোই হল- আর সেই খেলায় “জয় শ্রীরাম” গো-হারান হারলো “জয় বাংলার” কাছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 News Vision LTD It's a TM Registered News Organization
Design & Development Freelancer Zone