"> পূর্ণিমার মিলনে ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হওয়ার আশংকা পূর্ণিমার মিলনে ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হওয়ার আশংকা – News vision
  1. admin@newsvision.us : admin :
  2. info@newsvision.us : newsvision :
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৬:৩১ অপরাহ্ন

পূর্ণিমার মিলনে ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হওয়ার আশংকা

নিউজ ভিশন ডেস্ক ::
  • পোষ্ট করেছে : রবিবার, ২৩ মে, ২০২১
  • ১৯ জন দেখেছেন

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আগামী বুধবার স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি সোমবার আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়টি পূর্ণিমার সময় আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। ৩০ বছর পর আবারও ভরা পূর্ণিমায় ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, পূর্ণিমায় এমনিতেই সাগরে জোয়ারের উচ্চতা অন্য সময়ের থেকে বেশি থাকে। ফলে এবারের ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আতঙ্কে আছেন উপকূলের মানুষও। তবে ঝড় মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। প্রস্তুত রয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহে কন্ট্রোল রুম চালু করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুস বলেন, গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়। বিকেল ৫টার দিকেও সেটি একই এলাকায় অবস্থান করছিল। নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বিকেল ৫টায় নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে; পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

রুহুল কুদ্দুস বলেন, এটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হতে পারে। বর্তমান গতিধারা অব্যাহত থাকলে ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার নাগাদ ভারতের ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ এখন ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার; যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোকিমটার পর্যন্ত বাড়ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কপবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টিরও আভাস দেওয়া হয়েছে।

তবে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে প্রবেশ করতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বার্তার সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেন কানাডার সাসকাচুয়ান ইউনিভার্সিটির আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল। রোববার তিনি বলেন, কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ উইন্ড শিয়ারের (উচ্চতার সঙ্গে বায়ুপ্রবাহের দিকের পরিবর্তন) মানচিত্র, সমুদ্রপৃষ্ঠে পানির তাপমাত্রা, সমুদ্রপৃষ্ঠে পানির গড় উচ্চতার বিচ্যুতি ও বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘ ৪০ বছরের ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়টি নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।

তিনি বলেন, এটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও মিয়ানমার উপকূলেও আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টি খুবই শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যদি এটি প্রকৃতপক্ষেই চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে, তবে ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৬ থেকে ২২০ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মোস্তফা কামাল বলেন, ২৬ মে ভরা পূর্ণিমা। ফলে চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই অক্ষে অবস্থান করবে। চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত অভিকর্ষে ওই দিন উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক নিয়মেই দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হবে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে যার সঙ্গে যুক্ত হবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উঁচু জলোচ্ছ্বাস।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানান, শতভাগ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। রোববার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাঁধ মনিটরিংসহ জরুরি কাজের জন্য পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সব কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।

এ দিকে ঘূর্ণিঝড়ের আগে দেশের সব বিভাগে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। টানা কয়েক দিন ধরে অহসনীয় গরমে অস্বস্তিকর অবস্থা জনজীবনে। রোববার খুলনায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আগামী মঙ্গলবার থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সারাদেশে প্রস্তুতি: ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সারাদেশে প্রস্তুতির খবর জানিয়েছেন আমাদের ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম জেলা ও উপজেলায় ৫১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠন করা হয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ টিম ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম। মজুদ করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার। উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসনের উদ্যোগে চলছে সচেতনতামূলক মাইকিং।

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র। এখানে আশ্রয় নিতে পারবেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পাঁচ হাজার ৩২০ জন স্বেচ্ছাসেবক।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলার মোংলা, রামপাল, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করেছে প্রশাসন। এসব উপজেলায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী। চারটি উপজেলায় থাকছে ৪৬টি মেডিকেল টিম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 News Vision LTD It's a TM Registered News Organization
Design & Development Freelancer Zone