"> হাফিজুরের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চায় ঢাবি প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা হাফিজুরের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চায় ঢাবি প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা – News vision
  1. admin@newsvision.us : admin :
  2. info@newsvision.us : newsvision :
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

হাফিজুরের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চায় ঢাবি প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা

নিউজ ভিশন ডেস্ক ::
  • পোষ্ট করেছে : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১
  • ২২ জন দেখেছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাফিজুরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এর সঠিক তদন্ত এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার জন্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

এদিকে, একই দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে একাধিক ছাত্র সংগঠন। এছাড়া, হাফিজুরের মৃত্যুকে ‘খুন’ উল্লেখ করে এর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য আখতারুজ্জামান হাফিজুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোক-সন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডিএমপি কমিশনারকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে উপাচার্য বিষয়টি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার জন্য ঢাবি প্রক্টরকেও নির্দেশ দিয়েছেন।

হাফিজুর রহমানের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীও। তিনি বলেন, ‘হাফিজের মৃত্যুতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই মর্মাহত। এ ঘটনার তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত একমাত্র রাস্তা। তার (হাফিজ) সাথে কী ঘটেছে তা আমরা জানতে চাই।’

‘ঘটনাটি ক্যাম্পাসে হওয়ায় অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায় দিচ্ছে’- এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘ক্যাম্পাস থেকে একজন শিক্ষার্থীর এমন ঘটনা সবার জন্য কষ্টকর। এই কষ্টের অনুভূতি আমরা বুঝি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তো এখন বন্ধ, আর পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়নি। জানার পরেই আমরা খোঁজ-খবর নিয়েছি।’

হাফিজুরের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থী নিখোঁজ এবং মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের ‘নড়বড়ে ভূমিকার’ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা।

সোমবার সকালে হাফিজের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গা থেকে একজন শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু কখনও কাম্য নয়। আমাদের ভাইয়ের মৃত্যু আমাদের ভীষণভাবে আহত করেছে। কয়েকটি ভিডিওচিত্র দেখেছি, সেখানেও যথেষ্ট প্রশ্ন থেকে যায়। যারা নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করেনি, যাদের কারণে আমাদের ভাই-বন্ধু হাফিজের প্রাণ চলে গেছে তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ঘটনাটি যদি আত্মহত্যাও হয়, তারও সন্তোষজনক একটি তথ্য আমরা চাই। সর্বোপরি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার দাবি করছি।’

প্রশাসনকে অভিভাবকসুলভ আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু সেটাতে আপনারা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। আপনাদের বলব, প্লিজ, আপনারা আরেকটু অভিভাবকসুলভ আচরণ করুন, আমাদের নিরাপত্তা দিন- যাতে আমরা স্বাধীনভাবে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারি।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন।

আব্দুল ওয়াহেদ নামে এক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘হাফিজ ভাইকে হত্যা করা হয়েছে খুবই নৃশংসভাবে। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে অনেক বড় বড় কালসাপের সংযোগ থাকতে পারে। প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শী, ডাবওয়ালা সব এক একটি করে গায়েব হয়ে যেতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এত পঁচে গেছে আগে বুঝিনি, আমরা এর শেষ চাই। যে যেভাবে পারেন প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য রেকর্ড করে পাবলিশ করুন। হাফিজ হত্যার বিচার চাই, ভিসি আর প্রক্টরের পদত্যাগ চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ চাওয়া মানে বোকার স্বর্গে বাস করা উল্লেখ করে এক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘ঢাবি ভিসি, প্রক্টরের কাজ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তাকে গলা টিপে হত্যা করা, ঢাবির সংগ্রামী ইতিহাসকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিপ্লবী চিন্তাকে পিচঢালা রাস্তায় পিষে মারা! মনে রাখবেন- অযোগ্য, অপদার্থ, মেরুদণ্ডহীন, কাঠের পুতুল না হলে ওই চেয়ারে বসা যায় না। তাই এখনও যারা এদের কাছে বিচার চাইছেন, এদের কাছে শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তা চাইছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ চাইছেন তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন!’

নিরাপদ ক্যাম্পাস দাবি করে মির সাদিক নামে আরেক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে ছাত্র তুলে নেওয়া শুরু হয়েছে, এখন লাশ পাওয়া যাচ্ছে। ক্যাম্পাসের এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা আমাদের আরও অনেক ভোগাবে। নিরাপদ ক্যাম্পাস প্রয়োজন।’

গত ১৫ মে ঈদুল ফিতরের পরদিন দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন হাফিজুর। বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে রাত ৮-৯টার দিকে তার নিজ বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। পরে তার বন্ধুরা তাকে বিদায় দিলে এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ঘটনায় তার মা সামছুন নাহার গত শুক্রবার কসবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের আটদিন পর গত রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মেলে হাফিজের লাশ। তাকে চিহ্নিত করে তার পরিবারের সদস্যরা।

হাফিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 News Vision LTD It's a TM Registered News Organization
Design & Development Freelancer Zone