"> ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চিংড়ি ঘের ও সুন্দরবনের অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষতি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চিংড়ি ঘের ও সুন্দরবনের অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষতি – News vision
  1. admin@newsvision.us : admin :
  2. info@newsvision.us : newsvision :
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চিংড়ি ঘের ও সুন্দরবনের অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষতি

নিউজ ভিশন ডেস্ক ::
  • পোষ্ট করেছে : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ১৭ জন দেখেছেন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাত করেনি। তবে এর প্রভাবে তৈরি হয়েছে জলোচ্ছ্বাস। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ারে উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অধিকাংশ এলাকার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের। বিশেষ করে চিংড়ি ঘের ভেসে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন চাষীরা। কয়েকটি হরিণ মারা যাওয়ার খবর ব্যতীত সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির হিসাব এখনো ঠিকভাবে করা যায়নি। তবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনের বন বিভাগের অবকাঠামোয়।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট যেকোনো দুর্যোগের প্রথম শিকার হয় উপকূলীয় এলাকার মানুষ। বছরের পর বছর ধরে এসব দুর্যোগ মোকাবেলা করতে উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে নির্মিত হয়েছে বেড়িবাঁধ। যদিও এসব নির্মিত বাঁধের স্থায়িত্ব ও সংস্কার নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এরই মধ্যে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে এসব বাঁধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হাজার হাজার একর মাছের ঘের ভেসে গেছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ও প্রবল বাতাসে পূর্ব সুন্দরবনের বনবিভাগের অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সুন্দরবনের ওপর দিয়ে পাঁচ-ছয় ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে বনবিভাগের কয়েকটি জলযান, ওয়াচ টাওয়ার, গোলঘর, রাস্তাসহ অনেক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে ডুবে মারা গেছে অন্তত চারটি হরিণ।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকে সুন্দরবন-সংলগ্ন নদ-নদী ও খালে পানি বাড়তে থাকে। বুধবার প্রায় পাঁচ-ছয় ফুট পানি উঠে যায় সুন্দরবনে। পানির তোড়ে পূর্ব সুন্দরবনের ১৯টি জেটি, ছয়টি জলযান (ট্রলার) দুটি গোলঘর, একটি ফুট রেইল, একটি ওয়াচ টাওয়ার, চারটি স্টাফ ব্যারাক ও একটি রেস্ট হাউজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ১০টি অফিসের টিনের চালা উড়ে গেছে ইয়াসের বাতাসে। সুন্দরবনের মধ্যে সুপেয় পানির সংস্থান হিসেবে পরিচিত নয়টি পুকুরে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করেছে। সুন্দরবন থেকে দুটি এবং লোকালয় থেকে দুটি হরিণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের দুটি কুমিরের শেড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হিসেবে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের অন্তত ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে সুন্দরবনের একমাত্র বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্র করমজলের কোনো প্রাণীর ক্ষতি হয়নি।

খুলনা: জেলার উপকূলীয় উপজেলা ধরা হয় কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটাকে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নে অন্তত ১০টি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। আর বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে এমন স্থানের সংখ্যা আরো অন্তত ১৫টি।

কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত বলেন, জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ৫ হাজার ৮৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক বিধ্বস্ত বাড়ির সংখ্যা ১ হাজার ২০০। আর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ৫০টির মতো ঘর। আশ্রয়কেন্দ্রে ৫ হাজার ২০০ মানুষ রয়েছেন। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা এসএম আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজেলায় ২ হাজার ১০০ মত্স্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডুবে গেছে অসংখ্য মাছের পুকুর। মত্স্য খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সাতক্ষীরা: ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর, আশশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার শতাধিক গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের বিপুলসংখ্যক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে অন্তত সাড়ে চার হাজার চিংড়ি ঘের। নোনা পানির এ অঞ্চলের মানুষ পুকুরের মিষ্টি পানির ওপর নির্ভরশীল। সেসব পুকুরও নোনা পানিতে ডুবে গেছে। পানির তোড়ে শ্যামনগর উপজেলার স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে জেলার শ্যামনগর উপজেলায় দুই হাজার ও আশাশুনি উপজেলায় ২ হাজার ৫৬০টি চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। এতে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার চিংড়ির ক্ষতি হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, ৩০ ভাগ চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বিপুল টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজার গিফারী।

বাগেরহাট: ইয়াসের প্রভাবে প্রবল জোয়ারের পানিতে বাগেরহাটের পাঁচ সহস্রাধিক মত্স্য ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে প্রায় ১৫ কোটি টাকার চিংড়ি।

বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, ইয়াস ও জোয়ারের প্রভাবে এখন পর্যন্ত জেলায় অন্তত আট হাজার মত্স্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। জেলা মত্স্য কর্মকর্তা এসএম রাসেল বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় পাঁচ হাজারের অধিক চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 News Vision LTD It's a TM Registered News Organization
Design & Development Freelancer Zone