"> পাকিস্তানে টকশো থেকে সাময়িক সাসপেন্ড সাংবাদিক হামিদ মির পাকিস্তানে টকশো থেকে সাময়িক সাসপেন্ড সাংবাদিক হামিদ মির – News vision
  1. admin@newsvision.us : admin :
  2. info@newsvision.us : newsvision :
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

পাকিস্তানে টকশো থেকে সাময়িক সাসপেন্ড সাংবাদিক হামিদ মির

নিউজ ভিশন ডেস্ক ::
  • পোষ্ট করেছে : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ১৩ জন দেখেছেন

সেনাবাহিনীর সমালোচনা করার পর পাকিস্তানের সুপরিচিত সাংবাদিক ও টকশোর উপস্থাপক হামিদ মিরকে ওই শো থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ মিডিয়া গ্রুপ জিও নিউজের টকশো ‘ক্যাপিটাল টক’ উপস্থাপনা করেন। সোমবারের এ অনুষ্ঠানের বাইরে রাখা হয় হামিদ মিরকে। এদিন জিও নিউজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে তাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, তিনি আর ‘এয়ার’-এ বা সম্প্রচারে যেতে পারবেন না। কিন্তু কি কারণে তাকে অনুষ্ঠান থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো কারণ দেখায়নি জিও নিউজ। তবে তারা বলেছে, কিছু সময় পরে তিনি আবার অনুষ্ঠান করতে পারবেন। অনলাইন বিবিসির খবরে এ কথা বলা হয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, পাকিস্তানের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশন সহ বিভিন্ন সংগঠন।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে হামিদ মির দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা (সেনাবাহিনী) মিডিয়ায় সেন্সর করাচ্ছে। সাংবাদিকদের অত্যাচার করছে। হামিদ মির বলেছেন, তার স্ত্রী ও কন্যাকেও হুমকি দেয়া হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, পাকিস্তানে সাংবাদিকরা ক্রমশ হুমকির মুখে রয়েছেন। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জিও নিউজের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, চ্যানেলটি সেনাবাহিনীর চাপে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। গত সপ্তাহে এই উপস্থাপক যে মন্তব্য করেছেন তার জন্য তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সমালোচনাকারী আরেক সাংবাদিক আসাদ আলি তুর’কে সম্প্রতি তার বাড়িতে হামলা করে অজ্ঞাত তিন ব্যক্তি। সাংবাদিক তুর বলেছেন, হামলাকারীরা রিপোর্ট করার কারণে তাকে অপদস্ত করেছে এবং হুমকি দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ র‌্যালিতে বক্তব্য রাখেন হামিদ মির। সেখানে তিনি জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, পাকিস্তানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে হামলার জন্য যারা দায়ী, তিনি তাদেরকে শনাক্ত করতে পারেন। তার ভাষায়, আমাদের ওপর হামলা চালাতে যদি তোমরা আমাদের ঘরে ঢুকে পড়তে পারো, ভাল কথা। তোমাদের ট্যাংক আছে, বন্দুক আছে। তাই আমরা তোমাদের ঘরে ঢুকবো না। কিন্তু আমরা জনগণকে তথ্য জানিয়ে দেবো। তোমাদের ঘরে কি হয় তা জানিয়ে দেবো।

হামিদ মিরের বিরুদ্ধে শাস্তি হিসেবে গৃহীত এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলেছে, এর মধ্য দিয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যমকে মারাত্মকভাবে খাটো করা হয়েছে। এরই মধ্যে নিষ্পেষণমূলক পরিবেশে মুক্তভাবে কথা বলাকে সুরক্ষিত রাখা উচিত কর্তৃপক্ষের। নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস। এ সংগঠনের স্টিভেন বাটলার বলেছেন, পাকিস্তানে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় যে ঘাটতি আছে তা এই ঘটনা প্রকাশ করে দিয়েছে। পাকিস্তানের হিউম্যান রাইটস কমিশন এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, হামিদ মিরকে অবিলম্বে তার দাযিত্ব পালন করতে দেয়া উচিত। তার বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও তদন্ত করা উচিত।

অনুষ্ঠান থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর হামিদ মির টুইটে তার অবস্থানে অটল থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জানিয়েছেন, চাপের কাছে তিনি নত স্বীকার করবেন না। তিনি লিখেছেন, অতীতেও আমাকে দু’বার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আমি দু’বার চাকরি হারিয়েছি। হত্যা চেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু সংবিধান আমাকে কথা বলার যে অধিকার দিয়েছে তা কেউ বন্ধ করতে পারেনি। এসব আমার জন্য নতুন কিছু নয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বন্দুক হামলায় মারাত্মক জখম হয়েছিলেন হামিদ মির। ওই সময়ও তিনি বেলুচিস্তান প্রদেশে সেনাবাহিনীর অধিকার লঙ্ঘন নিয়ে তার টকশোতে কথা বলেছিলেন। এরপর তার ওপর ওই হামলা হয়। তবে তার ওপর হামলাকারীদের কখনোই শনাক্ত করা হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে বহু দশক ধরে পাকিস্তান শাসন করেছে সেনাবাহিনী। এখন যদিও ইমরান খানের নেতৃত্বে বেসামরিক সরকার ক্ষমতায়, তবু অনেকে বলেন, সেনা কর্মকর্তারা অব্যাহতভাবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। সমালোচকরা বলেন, কয়েক বছর ধরে মিডিয়ায় ভিন্ন মতকে দমন করা হচ্ছে। তবে সেনাবাহিনী ও সরকার উভয়েই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের ইউনিয়নগুলো বলছে, ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার সংবাদকর্মী তাদের কাজ হারিয়েছেন। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে সাংবাদিকদের জন্য কাজ করা সবচেয়ে ভয়াবহ দেশগুলোর মধ্যে ৫ম হলো পাকিস্তান। এপ্রিলে রাজধানী ইসলামাবাদে অজ্ঞাত অস্ত্রধারীদের হামলায় বুলেটবিদ্ধ হয়ে বেঁচে গেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আবসার আলম। ২০২০ সালের জুলাইয়ে আরেকজন প্রথম সারির সাংবাদিক মতিউল্লাহ জান’কে অপহরণ করে পুলিশের ইউনিফরম পরা অস্ত্রধারীরা। তাকে চোখ বেঁধে, মুখে কাপড় ঢুকিয়ে তুলে নিয়ে ১২ ঘন্টা নির্যাতন করা হয়। তারপর তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 News Vision LTD It's a TM Registered News Organization
Design & Development Freelancer Zone