"> দেশীয় মাছ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে দেশীয় মাছ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে – News vision
  1. admin@newsvision.us : admin :
  2. info@newsvision.us : newsvision :
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

দেশীয় মাছ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে

নিউজ ভিশন ডেস্ক ::
  • পোষ্ট করেছে : বুধবার, ৯ জুন, ২০২১
  • ২৯ জন দেখেছেন

দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বাড়াতে ইলিশের মতোই পদ্ধতি অবলম্বন করতে চায় বাংলাদেশ সরকার। ছোট মাছের প্রজননকাল নির্ধারণ করে ওই সময় তা ধরা নিষিদ্ধ করা হবে। এ জন্য দেশের হাওর, বিল ও নদীর ওপর গবেষণা শেষ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে। জুন মাসকে প্রজনন মৌসুম ধরে স্বল্প সময়ের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেউ কেউ অঞ্চলভিত্তিক প্রজনন মৌসুম ঠিক করার কথা বলছেন। তবে সরকার শুরুতে এ নিয়ে পরীক্ষামূলক একটি প্রকল্প চালু করতে চায়। সফলতা এলে সারাদেশে অভয়াশ্রম চিহ্নিত করে দেশীয় মাছ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

বুধবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানা গেছে। ‘বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছের প্রজননকাল নির্ধারণ ও সংরক্ষণ’ শিরোনামের এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ।

এসময় সচিব বলেন, খুবই কম সময় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে ভালো ফল পেতে হবে। এ জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনে উপজেলাভিত্তিক পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু হবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে জনগণকে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ ও বিএফআরআই উদ্ভাবিত মাছের চাষ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, দেশে ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ১৪৩টি ছোট মাছ। ৩৮টি ছোট প্রজাতির মাছের বাণিজ্যিক গুরুত্ব আছে। ছোট মাছের পুষ্টিগুণও অনেক। ফলে ছোট মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আরও গবেষণা চালাতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম নিয়ামুল নাসের বলেন, সমুদ্রে থাকা শতাধিক প্রজাতির ছোট মাছ সংরক্ষণেও গবেষণা দরকার। ছোট মাছ কতটুকু খেলে কত ভিটামিন পাওয়া যায়, তা নির্ধারণ করা দরকার।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএ ওহাব বলেন, এপ্রিল থেকে জুলাই মাস দেশীয় ছোট মাছের প্রজননকাল। এ ক্ষেত্রে জুন মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।

তবে ছোট মাছের প্রজননকাল নিয়ে ভিন্নমত দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রজননকাল নির্ধারণের বিষয়টি বেশ জটিল। মানুষের কাছ থেকে মা মাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। বিলের মাছ প্রজননের সময় গভীর পানিতে থাকে না। ফলে বিলের মাছের ক্ষেত্রে প্রজননকাল নির্ধারণ করে লাভ হবে না।

তিনি বলেন, মা মাছ সংরক্ষণ না করে প্রজননকাল নির্ধারণ করলে সফলতা আসবে না। ছোট মাছের কয়েক লাখ অববাহিকা আছে। সব স্থানে ছোট মা মাছের অবস্থান এক রকম নয়। এ ক্ষেত্রে ইলিশের মতো পদ্ধতি অবলম্বন করলে হবে না। আগে চক্র ঠিক করতে হবে। উন্মুক্ত জলাশয়ের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, প্রজননের মতো মাছ নেই। ওয়াটার সিস্টেমের মধ্যে রিজার্ভার থাকতে হবে, বৃষ্টির সময় যাতে মাছ ফিরে যেতে পারে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করার পর ছোট মা মাছ সংরক্ষণে বছরব্যাপী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, যুগ্ম সচিব ড. মো. মশিউর রহমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের উপপরিচালক শেফাউল করিম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) মৎস্য জীববিদ্যা ও কৌলিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডু, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নির্মল রায় প্রমুখ। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. এএইচএম কোহিনুর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 News Vision LTD It's a TM Registered News Organization
Design & Development Freelancer Zone